দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশালের সাধারণ মানুষ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। অনেকেই কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ফেলে রেখে চলে গেছেন। মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী কোরবানির ঈদে আর চামড়া সংগ্রহ করবেন না তারা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরের পর থেকেই নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশায় করে বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
খান সড়ক এলাকার একটি মাদরাসার শিক্ষক হেলাল মুন্সি বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা থেকে এবার সিদ্ধান্ত ছিল চামড়া সংগ্রহ করা হবে না। তবুও বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা সংগ্রহ করেছি। এখন বিপদে পড়েছি। গরুর চামড়া ৪০০ টাকা করে বলছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরাও অসহায়। তারা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে না। অনেকেই লোকসানের ভয়ে চামড়া কিনতে চাইছে না।’
আরেক মাদরাসার শিক্ষার্থী রফিক মিয়া বলেন, ‘সারাদিন পরিশ্রম করে যদি ৪০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করতে হয়, তাহলে কষ্ট ছাড়া আর কী থাকে। একজন ছাত্রের পেছনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়। গাড়ি ভাড়াও উঠে না।’
মুসলিম গোরস্থান লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবুল হোসেন বলেন, ‘দান হিসেবে পাওয়া চামড়া বিক্রি করতে এসে দেখছি ছাগলের চামড়া প্রায় বিনামূল্যেই দিতে হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি খুব খারাপ।’
পোর্ট রোড এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাসির বলেন, ‘গত বছরের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা আমরা পেয়েছি। এ কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। সাতটি চামড়া এলে একটি রাখছি, বাকিগুলো ফেরত দিচ্ছি। গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় কিনছি। ছাগলের চামড়ার কোনো দাম নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে বরিশালে ১৫০ থেকে ২০০ ব্যবসায়ী ছিল। এখন সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ জন আছে। ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা না পেয়ে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।’
এমএস/